আমার আনন্দের ভিতরে অনর্গল কথা বলছিল আর্তনাদ
প্রতিদিনের রোজনামচায় অতিষ্ঠ জীবন। কর্মবিমুখ সময়ের আঘাতে বিধ্বস্ত আমি তলিয়ে যাচ্ছি প্রতিদিন। সবকিছুতেই বিরক্ত হচ্ছি প্রতিমুহূর্তে। চিন্তা-শক্তি লোপ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বুঝতে পারছিলাম না কিভাবে সময় কাটাব। ভিষণ ক্লান্ত লাগছিল। আমার মনের অবস্থা বুঝলো পতিদেব। হঠাৎ একদিন আমাকে না জানিয়ে ব্লগ খাতায় আমার নাম লিখে দিলেন। আমিতো অবাক! লেখালেখি সম্পর্কে আমার কোন ধারনা নেই। এমনকি কিবোর্ড ব্যাবহারের ধরনটাও অজানা। আশ্চর্য হলেও সতি কথা। অতঃপর পতিদেবের অতি উৎসাহে ব্লগে মনোনিবেশ করলাম। দিনের পর দিন যাচ্ছে শুধু ব্লগ পড়ে যাচ্ছি, লেখালেখি আর হয়না। কিভাবে হবে? আমি কোনদিন একটি কবিতা কিংবা গল্প লিখিনি। এমনকি কোনোদিন ডায়েরিও লিখিনি নিজের জন্য। সে আমি লেখার স্পর্ধা দেখাই কি করে! এমনি করে কেটে গেল কয়েক সপ্তাহ।লেখার বহুবার চেষ্টা করেছি। কি লিখি! কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিনা। পতিদেব বল্লেন মনে যা আসে সেটাই লেখ। কিন্তু মনের ফুটন্ত শব্দ গুলোকে বাক্যে সাজাতে পারলাম না।
আজ কিছু আমাকে লিখতেই হবে । নইলে পতিদেব একদিনের আড়ি ঘোষণা করেছেন। আমি হলাম পতি অন্তপ্রাণ। সম্ভাব্য পতি-বিরহ অসহ্য মনে হল। তাই সাহস করে লিখতে শুরু করলাম। কেউ পড়ুক কিংবা না পড়ুক আমি লিখলাম। এটি আমার প্রথম লেখা। এটুকু লিখেই আমার আনন্দের ভিতরে অনর্গল কথা বলছিল আর্তনাদ। আর আর্তনাদের ভিতরে গুণ গুণ করে গলা ভাঁজছিল অদ্ভুদ এক অস্বস্তি আর অস্বস্তির ভিতরে সমুদ্রের সাঁই সাঁই ঝড়। সেই ঝড়ের ঝাঁপটায় আমি দিশাহারা। বুঝলাম সাহিত্যের ভাষা আমার অজানা। হয়ত আমার লেখা শব্দগুলো সাদা কাশবন হয়ে দুলবে না কারো মনে। উড়ে যাবে শুকনো ঝাউপাতার মত বহু দূরে। যদি আমার এ লেখা শব্দের সিঁড়ি বেয়ে কাউকে গোলাপের মত উন্মীলিত করে এবং আমার লেখার ব্যর্থ প্রয়াস যদি করো হদয়ে মৃদু স্পন্দন জাগায় তখন-ই বুঝবো আমি বিজয়ী।
No comments:
Post a Comment