Monday, December 30, 2013

Top 10 Blog Websites to Create Free Blogs

It’s a great idea to create a blog. Maybe you want to write something to share your knowledge, your discovery or just for fun. The first thing about blogging is to choose a website to create a blog and then host it. The following 10 blog websites are the most popular ones among millions of active bloggers.
1. Blogger
Blogger is one of the most popular blog websites and now it is owned by Google. Blogger is a great starting site to get to know blogging and its user dashboard is very user friendly.
2. WordPress
WordPress is another major blog website besides blogger. With its own blogging platform WordPress, you can easily choose your favorite theme and blog layout.
3. Livejournal
Livejournal is not only a great blogging website but also a social networking website where you can search people by interests and school and participate in community discussions.
4. Blog.com
Blog.com offers free blog hosting with unlimited bandwidth for free members, more benefits for paid members.
5. Tumblr
Tumblr is a micro-blogging website where users can post text, images, videos, and more to their tumblelog.
6. Blogsome
Another blog website offering free web hosting for blogs. Blogsome is powered by wordpress.
7. Open Diary
Offers unlimited storage and posts, low cost subscription rates for advanced features.
8. Blogetery
Blogetery is a blog website that offers you payment to write blogs. You will get 90% of the profit, which is much more higher than other sites.
9. Blogster
Blogster offers free blogs as well as free image hosting.
10. Weebly.com
Weebly is one of TIME’s 50 Best Websites, which has an easy, drag & drop interface to create your own website.

Saturday, December 28, 2013

হায়রে ইন্ডিয়া-প্রেম!

আসসালামু আলাইকুম। সবাইকে শীতল সকালের মিষ্টি বাতাসের শুভেচ্ছা । সবাই নিশ্চয় ভালো আছেন ? আমিও এতক্ষণ ভালো ছিলাম । কিন্তু একটি ব্লগ পড়ে কেন যেন মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো । ব্লগটা ছিল ভারতের কাছে ১০০ জিবিপিএস ইন্টারনেট বিক্র হচ্ছে নাকী মাত্র ১কোটি ডলারে। এই দামে আমরাও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছি না । কী আশ্চর্য কথা !তাই না ?? আমাদের কাছ থেকে কিনে আমাদের চেয়েও কমদামের সুবিধা পাবে ইন্ডিয়ানরা ! আর আমরা....
কী দোষ করেছি আমরা? আমাদের দোষকি এটাই আমরা বাংলাদেশী ? নাকী দোষ এটা আমরা রক্ত দিতে জানি ? আজ পর্যন্ত আমরা কখনো আন্দোলন ছাড়া, সংগ্রাম ছাড়া ন্যায্য মূল্যায়ন পেলাম না ! তাছাড়া কী দোষ করেছি আমরা ? যদি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ত্ব আমাদের অধিকার আদায়ের পথে বাধা হয়ে থাকে , তবে কি প্রয়োজন ছিল এই স্বাধীনতার । পরাধীন ছিলাম, সেটাইতো ভালো ছিল । অন্তত রক্তেরদানে অর্জিত স্বাধীনতার প্রতি এই নিষ্ঠুর পরিহাস সহ্য করতে হতো না !
.
.
ভারত আমাদেরকে এমন কি সুখ দিয়েছে যে, আমরা তাদের কাছে প্রতিনিয়ত মাথা নত করছি । প্রতিনিয়ত দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে হলেও তাদের খুশি রাখতে চাচ্ছি । কি জন্য দালালী করছি ভারতের ?

কেন যেন আজ সুপারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছা হচ্ছে!

আজ সুপারম্যান হওয়ার খুব ইচ্ছে হচ্ছে । ইচ্ছে হচ্ছে সুপারম্যান হয়ে দেশের সব মানুষকে নিয়ে দেশ ত্যাগ করে বিদেশ চলে যেতে । ইচ্ছে হচ্ছে রাজাকার-স্বৈরাচার-বাকশাল মুক্ত এক সুন্দর দেশ গড়তে । যেখানে থাকবেনা কোন হানাহানি, মারামারি, কাটাকাটি রক্তারক্তি, জুলুম, নিপীড়ন, অত্যাচার । থাকবে একের প্রতি অন্যের ভালোবাসা , থাকবে সহমর্মিতা । কেউ যেখানে মানুষের দুর্বলতা খোঁজবে না । খোঁজবে শুধু ভালোবাসা ।
আমাদের দেশটাতো এরকমই ছিল । তবে আজ কেন এমন হল ? আমরা কি কখনো এসব নিয়ে ভেবেছি ? আর তাছাড়া ভাবার সময়টাই পেলাম কোথায় ! দু' বৃহত্‍ রাজনৈতিক দলের তামাশার খেলায় আমরা আজ জর্জরিত , পিঠ ঠেকে গেছে দেয়ালে । আমরা সবাই মিলে একটু সহনশীল হয়ে কি পারিনা এই দেশটাকে আবার সোনায় সোনায় বড়িয়ে দিতে??? চল না ইয়ার একটু চেষ্টা করে দেখি......

Tuesday, December 24, 2013

ভালোবাসার প্রতিদান ও সম্মানের অধিকার

ভালোবাসার প্রতিদান ও সম্মানের অধিকার

নীপা ও শাহেদের বিয়ের দুই বছর কেটে গেল। কী চমৎকার যে কেটেছে দুটি বছর! মনে হয় যেন কেবল দুটি ক্ষণ। এত আনন্দ, এত হাসি, এত প্রেম, এত সুখের দুটি বছর জীবনের উপর দিয়ে যেন মুহূর্তেই ফুড়ুৎ করে উড়াল দিয়ে চলে গেল। আসলে অত্যন্ত আনন্দের সময়গুলির মনে হয় ডানা আছে। ওরা অতি দ্রুত উড়ে যায়। নীপা-শাহেদের প্রেমের বিয়ে। পাঁচ বছর গভীর প্রণয় ছিল দু’জনের মধ্যে। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে খুব ধুমধাম করে অনুষ্ঠান করে বিয়ে হয় তাদের। ছোট্ট একটি ছিমছাম পরিবার তাদের। ছোটবেলায় শাহেদের বাবা মারা যান। মা আছেন। আর আছে শায়ান। শাহেদের একমাত্র ছোটভাই। অত্যন্ত আদরের ভাই তার। যখন বাবা মারা যান শাহেদ তখন ক্লাস নাইনে পড়ে। আর শায়ান একেবারেই শিশু তখন। কত কষ্টে যে কেটেছে বাবা মারা যাবার পরে তাদের দিনগুলি। কত কষ্টে ছোটবেলা থেকেই সে ছাত্র পড়িয়ে নিজের ও শায়ানের পড়ার খরচ জোগাড় করেছে। না খেয়ে থেকেছে কতবেলা। অফ, সেসকল দিনের কথা মনে পড়লে তার এখনও কলিজায় মোচড় দিয়ে ওঠে।এখন তাদের চারজন সদস্যের ছোট্ট সুখের সংসার। শাহেদ একটি এনজিওতে চাকরি করে। ভালই বেতন। শায়ান বিএ ক্লাসে পড়ে। মফস্বল শহরে থাকে ওরা পৈত্রিক বাড়িতে।

কয়েকদিন ধরে নীপার কী যেন হয়েছে। সে বায়না ধরেছে শাহেদকে বিদেশে পাঠাবে আরো বেশি অর্থ উপার্জন করতে। এ বায়না শুনে শাহেদের মনে হলো, তার মাথায় যেন চাঁদ ছিঁড়ে পড়েছে। বলো কী তুমি নীপা? কোন দুঃখে আমি তোমাদের ছেড়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে গিয়ে পড়ে থাকবো? আমাদের কি খাওয়া-পরার অভাব আছে?
নীপা বলে, শুধু খাওয়া-পরাই জীবনের সবকিছু? আমাদের আর্থিক অবস্থা খারাপ নয়। তবে মানুষে কি নিজের অবস্থা দিনদিন ভালো করবার চেষ্টা করে না?
তোমার কি মনে পড়ে না নীপা, আমাদের বিয়ের আগের সেই সকল উত্তাল দিনগুলির কথা? যখন আমাদের একদিন দেখা না হলেই আমরা দু’জনে দুদিকে অস্থির হয়ে পড়ে থাকতাম। আমাদের পৃথিবী অর্থহীন হয়ে যেত। আমাদের বিয়েতে আমাদের দুপক্ষের পরিবার রাজি হবে কিনা, আমরা পরস্পরকে পাবো কিনা এ চিন্তায় আমাদের বুক ঝড়ো হাওয়ায় বাসা থেকে পড়ে যাওয়া ভীরু পাখির বাচ্চার মতন দুরুদুরু কাঁপতো। আজ আমরা দুজন দুজনাকে পেয়েছি। আমাদের প্রেম সার্থক। আমাদের জীবন শান্তিতে ভরে রয়েছে। আর আজ তুমিই আমায় তোমার কাছ থেকে সুদূর অজানায়, অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিতে চাইছ নিঠুরের মতো?
চোখের আড়াল হলেই কি মনের আড়াল হয়, বলো শাহেদ? বিয়ের আগে আমরা দু’জন যখন দু’বাড়িতে থাকতাম তখন কি আমাদের মনের দূরত্ব ছিল? আমাদের মন কি সে সময় একাকার হয়ে ছিল না, শারীরিক দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও? আমাদের শরীর সীমিত। শরীরর সাধ্য সীমিত। কিন্তু মন অসীম। মনের সাধ্যও অসীম। মন সব দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে নিমেষেই। তাছাড়া পৃথিবী ত এখন হাতের মুঠোয়। কোনো দূরত্বই এখন আর দূর নয়। আমরা ফোনে কথা বলতে পারবো যখন তখন। স্কাইপে দেখতে পারবো দুজন দুজনাকে। আর তুমি ত আসবেই কিছুদিন পর পর।
কিন্তু আমার জন্য ঘর হতে অঙিনাই যে বিদেশ নীপা। তুমি যে আমার নীপছায়া। তোমার আঁচলের সুশীতল ছায়ার তলেই আমি আজীবন থাকতে চাই। তোমার পরশ পাবো না আমি! তোমার স্নিগ্ধ নিঃশ্বাস পড়বে না আমার বুকে! তোমার চুলের, তোমার গায়ের মিষ্টি ঘ্রাণ পাবো না আমি! এই শিশিরভেজা চোখগুলি আমার দিকে অমন আকুল করে তাকিয়ে থাকবে না!চাইলেই আমি আলিঙ্গনে একাকার হতে পারবো না আমার প্রিয়ার সাথে! তোমার মৃদু মৃদু হৃৎ-স্পন্দন শুনতে শুনতে ঘুমবো না আমি! এই সদ্যফোটা গোলাপের পাপড়ির মতন ঠোঁটগুলি আমি চাইলেই ছুঁতে পাবো না! তাছাড়া এই গোলাপি ওষ্ঠাধারে লালনীল পদ্মই বা এঁকে দেবে কে শুনি।
সবই হবে শাহেদ। আমরা পরস্পরকে হৃদয় দিয়ে সর্বক্ষণ অনুভব করবো। আমার হৃদয়ে যে হাজার রঙের পদ্ম তুমি এঁকে দিয়েছ তোমার প্রগাঢ় ভালোবাসা দিয়ে তা কি কোনোদিন মুছে যাবার, বলো? আজকাল অনেকেই ত বিদেশে যায় উন্নত জীবন গড়তে। আমার দুলাভাই গেল। পরে আপাকেও নিয়ে গেল। আমার বান্ধবীদের অনেকের বরই ত বিদেশে থাকে। কতো ভালো আছে ওরা দেখো। একদিন আমাদের সন্তান হবে। ওরা অনেক ভালো স্কুলে পড়বে। বড় হয়ে বিদেশে পড়তে যাবে। শহরে আমাদের নিজেদের সুন্দর একটা বাড়ি হবে। এমন সুন্দর, সাজানো স্বপ্ন কে না দেখে বলো? তোমার এনজিও’র চাকরিতে আমরা খাচ্ছি পরছি। কিন্তু শুধু খেয়ে পরেই কি আমাদের সারাটি জীবন যাবে? মানুষ কি নিজের অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করে না? আমাদের কি স্বপ্নও দেখতে নেই? কষ্ট তো আমারও হবে তোমার কাছ থেকে দূরে থাকতে। তবে এই কষ্ট যে সাময়িক। একদিন হয়ত তুমি আমাকেও নিয়ে যাবে তোমার কাছে। অথবা কয়েক বছরের মধ্যে দেশে কোনো ব্যবসা শুরু করে চলে আসবে দেশে।

শেষ পর্যন্ত শাহেদকে রাজি হতেই হলো। নীপার যুক্তির কাছে শাহেদের আবেগ হার মানলো। শাহেদ মালয়েশিয়া যাবার জোগাড়-যন্ত্র করতে শুরু করলো। প্লেনের টিকেট, ভিসার মূল্য মিলিয়ে অনেক টাকার অংক। তার কিছু জমানো টাকা ছিল। বাকি টাকা জোগাড় করলো কিছু জমি বন্ধক দিয়ে। নীপা বলেছিল, আমার গয়না বেচে দাও। শাহেদ বলেছে, আমার প্রাণ থাকতে যেন আমি তোমার গয়নায় হাত না দেই। তার বিদেশে যাবার দিন হাজির হলো। সবার মন ভার, চোখ ভেজা, কণ্ঠ জড়ানো। তবুও বিদায় দিতে হয়। চলে যেতে দিতে হয়। শাহেদকে নিয়ে প্লেন উড়ে গেল পাখির মতন। আস্তে আস্তে ক্ষুদ্র হতে হতে শূন্যে মিলিয়ে গেল ছোট্ট পাখিটি। নীপা, মা, শায়ান এরা তিনজন মলিন মুখে ঘরে ফিরে এলো শাহেদকে বিদায় দিয়ে। বিদেশ বিভূঁইয়ে শাহেদের শুরু হলো এক অপরিচিত অন্য রকম জীবন। হাহাকারপূর্ণ, শূন্য, ধূধূময়, বিরহকাতর জীবন। যে কোম্পানিতে কাজ দেবার নিশ্চয়তা দিয়ে তার কাছে ভিসা বিক্রি করা হয়েছিল, সে গিয়ে দেখল সেখানে তার জন্য কোনো কাজ নেই। ছোট একটা বাসায় তাকে গাদাগাদি করে কয়েকজনের সাথে থাকতে হচ্ছে। দিনে সবাই কাজে চলে যায়। ফিরে রাতে। সে সারাদিন কয়েদীর মতন একা বাসায় পড়ে থাকে। সবাইকেই রান্না করতে হয়। শাহেদ রান্না করবে কী করে? জীবনে ত কোনোদিন রাঁধেনি সে। তবুও রাঁধতে হয়। নিজের রান্না মুখে দিয়ে তার নিজেরই চোখ মুখ বিকৃত আকার ধারণ করে। অন্যেরা খাবে কিকরে? রাস্তা চেনে না। ভাষা জানে না। কারুর সময় নেই তাকে নিয়ে বেরুবার। সবাই ব্যস্ত। সে কাজের খোঁজে বের হয়। নিরাশ হয়ে মলিন মুখে ফিরে আসে। একমাস পরে কারখানায় একটি কাজ পেলো শাহেদ। রাতের শিফটে কাজ। সন্ধ্যায় কাজে চলে যায় সে। ফেরে ভোররাতে। এসে রান্না করে খেয়ে সকালে ঘুমুতে যায়। রোবটের মত কাজ করে চলেছে শাহেদ। কাজ আর ঘুম। ঘুম আর কাজ। এইই তার জীবন। সময় পেলেই দেশে ফোন দেয় শাহেদ। সবার সাথে কথা বললে মনটা একটু শীতল হয়। প্রবাসে তার কষ্টের কথা ভুলক্রমেও সে কারুকে জানতে দেয় না। সে বলে, এখানে সে খুব ভালো আছে। বেতন পেলেই দেশে পাঠিয়ে দেয়।

ওদিকে বাড়িতে চারিদেকে সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের মাত্রা বেড়ে চলেছে। তাদের পোশাক-আশাক, চাল-চলনে আভিজাত্য বেড়েছে। নতুন আসবাব, নতুন টিভি ইত্যাদি নিত্যনতুন দ্রব্যসামগ্রীর আগমন ঘটছে। আহা পরিবারের কেউ বিদেশে থাকলে কত সুখ! নীপার মাঝে মাঝে শাহেদের জন্য মন খারাপ লাগে অবশ্য। তবে শাহেদ প্রতিদিনই একাধিকবার কল করে। বলতে গেলে মন খারাপ করার অবকাশই দেয় না সে। শায়ানের সাথেও তার এখন বেশ ভালো সময় কাটছে। শায়ান ভাবীকে সিনেমায় নিয়ে যায়। ভাবীর সাথে বসে ছক্কা ও দাবা খেলে, গল্প করে। ভাবীর মুখ গোমরা দেখলে তার ভালো লাগে না। শাহেদ মালেশিয়া যাবার ৮মাস পরে একটি সোনার গয়নার সেট কিনে পাঠিয়েছে নীপার জন্য। খুব সুন্দর দেখতে। চকচকে কাঁচা সোনা। সুন্দর ডিজাইন। এত চমক, এত আনন্দ অপেক্ষা করছিল তার জন্য! খুশিতে নীপার চোখ ছলছল করতে লাগলো। আহা, জীবন কতো সুন্দর! দেখতে দেখতে আড়াই বছর কেটে গেল। শাহেদ এখনও বাড়িতে এলো না। বাড়িতে টাকা পাঠানোর পর তার হাতে আর তেমন কিছু অবশিষ্ট থাকে না। বাড়িতে আসা বিরাট খরচান্ত ব্যাপার। সে অল্প অল্প করে টাকা জমাচ্ছে বাড়ি আসবার জন্য।

নীপা আর শায়ান দাবা খেলছে একদিন। হঠাৎ ভাবীর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে শায়ান বলল, কী ব্যাপার রঙ্গিলা ভাবী, তোমার শরীরের ভূগোল যে বিস্তৃতি লাভ করছে দিনদিন! ইন্ডিয়া দখল করে নেবে নাকি? নীপার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। কী যা-তা বলছ? সত্যিই কি তাই? নয় তো কি? কোনো খবর নেই তোমার নিজের শরীরের? নীপা অস্থির হয়ে উঠল। কেঁদে দিলো আষাঢ়ের বৃষ্টির মত ঝুম ঝুম করে। আমি ত কিছুই বুঝতে পারিনি। আমি ত কিছুই জানি না। তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নিয়ে চলো আমায়। একটা ব্যবস্থা করো। ভাবীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলো শায়ান। মাকে বলে গেল, ভাবীর প্রেসার বেড়ে গেছে, তাই ডাক্তার দেখানো দরকার। ডাক্তার সবকিছু পরীক্ষা করে বললেন, নীপা ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। শুনে নীপার মগজ ভনভন করতে লাগলো। বললো, ডাক্তার যে করেই হোক, যত টাকাই লাগুক ব্যবস্থা করুন। আমি এই বাচ্চা চাই না। ডাক্তার বললেন, বড্ড দেরী হয়ে গিয়েছে। সন্তান জন্ম দেয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই। নীপা আগের চেয়ে একটু মুটিয়ে গেছে। সে মনে করেছিল পেটটা তাই একটু বেড়ে গেছে। ওটা চোখে পড়ার মতনও নয় অবশ্য। তাছাড়া প্রেগনেন্সির কোনো লক্ষণই খাওয়াদাওয়া বা অন্য কিছুতে আসেনি। হায় হায় কী হয়ে গেল। কী হবে এখন? সারা পথে শায়ান নীপাকে গঞ্জনা করল। বাড়িতে এসে শায়ানের দু’পা জড়িয়ে ধরে হাহাকার করে কাঁদতে লাগলো নীপা। চলো শায়ান, আমরা দূরে কোথাও চলে যাই। যেখানে আমাদেরকে কেউ চিনবে না। এ সন্তান আমাদের দুজনের। ওর দিকে আমরা মানুষের ঘৃণার দৃষ্টি পড়তে দেবো না। মানুষের ঘৃণার বাক্য শুনতে দেবো না আমরা ওকে। আমরা দুজনে মিলে আমাদের সন্তানকে মানুষ করবো। শায়ান লাথি মেরে নীপাকে ফেলে দিয়ে বললো, কোথায় গিয়ে অপকর্ম করে পাপের বোঝা বাঁধিয়েছিস পেটে। সেই পাপের বোঝা এখন আমার উপর চাপাতে চাইছিস মাগী? মা শুনতে পেলেন তাদের সব কথোপকথন। বুঝতে পারলেন সবকিছু। ঝাড়ু হাতে নিয়ে তেড়ে এলেন নীপার দিকে। বললেন, খবরদার মাগী। আমার নিস্পাপ ছেলেকে কলঙ্ক দিবি তো। তুই দূর হয়ে যা আমার বাড়ি থেকে। নইলে গলায় দড়ি দিয়ে মর। আমার বাড়ি অপবিত্র করেছিস তুই। নীপা ছিন্নলতার মতন লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। জ্ঞান হারালো। দুই ঘণ্টা পরে জ্ঞান ফিরে এলো তার। উঠে বললো, আম্মা দেখুন জ্বীনভাই আমার জন্য আপেল-কমলা নিয়ে এসেছে। আপনাদেরও দিতে বলেছে। নিজের আলমারি থেকে শাড়ি,গয়না, পারফিউম ইত্যাদি জিনিস এনে একে একে দেখিয়ে বলছে, দেখুন সে আমার জন্য কতকিছু এনেছে। শাশুড়ির চোখ তো ছানাবড়া নীপার কথা শুনে। কী যা-তা বকছিস। নষ্টামিতে ধরা পড়ে পাগল হয়ে গেলি নাকি? না আম্মা, বেশ কিছুদিন যাবত জ্বীনভাইটা আমার পিছু নিয়েছে। সে আমাকে ভালোবাসে। আমাকে বিয়ে করে জ্বীনরাজ্যে নিয়ে যেতে চায়।। দেখুন না, এই যে সে আমার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দেখুন, আকাশ-পাতাল লম্বা সে। তার চোখ থেকে নূর বেরুচ্ছে। কেমন সুন্দর তার গায়ের গন্ধ। আমার প্রেমে সে হাবুডুবু খাচ্ছে আকাশে পাতালে। আমার পেটের সন্তান তো তারই। মা বললেন, আরে ঠিকই তো। মা এগিয়ে গিয়ে নীপাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ভালো বুদ্ধিই তো বের করেছিস। নইলে এই কলঙ্ক থেকে আমার নিষ্পাপ শায়ানকে কি করে বাঁচাতাম? শাহেদকেই বা বোঝাতাম কী বলে? এবার মা দৌড়ে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশিনীকে ডেকে আনলেন। দেখাতে লাগলেন জ্বীনের দেওয়া সমস্ত বিরল উপহার ও খাদ্য সামগ্রী। দেখোই না বুবু, এই রকম আপেল কি এই দুনিয়ায় পাওয়া যায়? এই রকম শাড়ি-গয়না-পারফিউম কি এই জগতে পাওয়া যায়? জ্বীনবাবাজি আমার বৌমাকে ভালোবেসে ফেলেছে। বড়ই ভদ্র ঘরের সন্তান। আমাকে পায়ে ধরে সালাম করে। সবাই বললো, সত্যিই তো। এই রকম জিনিসপত্র এই দুনিয়ায় থাকতেই পারে না। তা আমরাও একটু জ্বীনবাবাকে চোখে দেখতে চাই। না না, তা হবার নয়। আমাদের পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কাউকে দেখা দিলে তার জ্বীনত্ব নষ্ট হয়ে যাবে। তবে তোমরা কিছু আপেল-কমলা নিয়ে যেতে পারো। সবাই আপেল-কমলা নিয়ে খুশিমনে বাড়ি ফিরে গেল।

শাহেদের কানে গেলো জ্বীনের গল্প। সে গল্প শুনে হাসে। ভাবে সবাই মজা করছে তার সাথে। একদিন জ্বীনের ঔরষজাত একটি শিশুপুত্র জন্ম নিলো নীপার গর্ভ থেকে। শাহেদের কাছে এই খবর গেল। তার মনে হলো তার মাথায় সূর্য ছিঁড়ে পড়েছে। সে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। এদিকে মহাধুমধামে জ্বীনপুত্রের নাম রাখার অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। জ্বীনবাবা তার পুত্রের জন্য জান কোরবান করতে প্রস্তুত। সবার জন্য উপহার এনে ভরিয়ে ফেলেছে সে ঘরদোর। তার পুত্রের নাম রেখেছে সে ওমর ফারুক।
জ্বলন্ত মন নিয়ে উদ্ভ্রান্তের মতন শাহেদ বাড়িতে ছুটে এলো। ময়লা জামা, উস্কোখুস্কো ময়লা চুলদাড়ি, ফ্যাকাশে মুখ, পাথর চোখ নিয়ে পাগলবেশে সে ঘরে ঢুকলো। তখন জ্বীনপুত্রকে নিয়ে সবাই আনন্দরত। শাহেদ বলতে লাগলো যন্ত্রের মতো, আমি রোবটের মতো খেটে টাকা পাঠাচ্ছি তোমাদের সুখের জন্য। বাবা মারা যাবার পর থেকে নিজের চিন্তা না করে মা-ভাইয়ের চিন্তা করেছি। আমি ছেঁড়া জামা পরে শায়ানকে নতুন জামা পরিয়েছি। আর তোমরা সবাই মিলে আমাকে এতবড় ধোঁকা দিতে পারলে? তারপর আবার নাটকও করছ। মা তুমিও কী করে পারলে এ নাটকে অংশ নিতে? নীপার দিকে তাকাতে বা তার সাথে কথা বলতে শাহেদের ঘেন্না হচ্ছে। সে মাকে বললো, মা ওকে বলো সব গুছিয়ে নিতে। আমি আজকের মধ্যেই তালাকের ব্যবস্থা করছি। নীপা দৌড়ে এসে বলল, দ্যাখো এই বাচ্চা জ্বীনের। আল্লাপাক সাক্ষী। আমি মিথ্যে বললে এই মুহূর্তেই আমার মাথায় সাত আসমান ভেঙে পড়বে। শাহেদ বললো, জ্বীনের সাথে শুয়ে যখন বাচ্চা পয়দা করেছ তখন জ্বীনের সাথেই সুখের সংসার পাতো গিয়ে। শাহেদের ইচ্ছে করছে জীবন্ত মাটির নিচে ঢুকে যেতে। এই লজ্জাবনত মুখ সে কি করে মানুষকে দেখাবে। দু’পক্ষের কয়েকজন লোক ডাকলো সে আজকে বিকেলে। সে আজই সব চুকিয়ে দিতে চায়। যার দেহমনে অন্য পুরুষ, তার সাথে অপ্রোয়জনীয় কাগুজে সম্পর্ক যত তাড়াতাড়ি ছিন্ন করা যায় তত তাড়াতাড়ি মুক্তি। বৈঠক বসেছে। একই নাটক চলছে এখনও। জ্বীনের দেওয়া সমস্ত উপহার এনে দেখাচ্ছে নীপা লোকজনদের। শাহেদ দেখে চিনতে পারে এসব তার পাঠানো জিনিস। সে চুপ করে থাকে। তার খুব ঘেন্না হচ্ছে এ বিষয়ে কথা বলতে। বিজ্ঞ বিচারকরা বলছেন, তুমি যখন এই নিষ্পাপ মেয়েটিকে কলঙ্ক দিলে, তাকে যখন তুমি রাখবেই না, তোমাদের বিয়ের কাবিন তো ৬ লক্ষ ১টাকা। পুরো টাকাটা এখনই গুনে নীপার হাতে দিয়ে তাকে বিদায় দাও। শাহেদ বললো, এত টাকা এখন আমার হাতে নেই। আমার কাছে ২লাখ টাকা আছে। বাকি টাকা আমি আস্তে আস্তে দিয়ে দেবো। সবাই বললো, না। এই মেয়েটিকে তোমার ঠকানো চলবে না। এটা তার পাওনা। তাকে নগদ দিয়ে দিতে হবে। আমার কাছে যে এখন ২লাখের বেশি এক টাকাও নেই। তাহলে তুমি বরং নীপার কাছে মাফ চাও। সে দয়া করে মাফ করলেই মাফ। আমাদের কিচ্ছু করার নেই। শরিয়তী ব্যাপারে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত দিয়ে গুনাহগার হতে পারবো না বাপু। শাহেদ বললো, মাফ চাইছি না আমি, শুধু সময় চাইছি। নীপা বললো, আমার পাওনা আমি ছাড়বো কেন? আমি তো কারুর দয়া-দাক্ষিণ্য চাইছি না। এটা আমার অধিকার। আমার পাওনা। এক পয়সাও মাফ করবো না। শাহেদ বেরিয়ে গেল টাকা জোগাড় করতে। যে করেই হোক তাকে টাকা জোগাড় করতেই হবে আজ রাতের মধ্যে। বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার করলো সে। বাকি টাকা জোগাড় করল রাতারাতি কম দামে পৈত্রিক জমি বিক্রির বায়না করে। সে গুনে গুনে ৬লাখ ১টাকা বিচারকমণ্ডলীর হাতে তুলে দিলো। বিচারকরা তুলে দিলেন নীপার হাতে। বললেন, গুনে নাও। নীপা টাকা গুনতে গুনতে উদ্ধতকণ্ঠে বলতে লাগলো, এ আমার দেনমোহরের টাকা, এ আমার নারীত্বের সম্মান, আমার সম্মানিত অধিকার, আমার পাওনা। কেন ছাড়বো আমি? এক পয়সাও ছাড়বো না।

এক ছেলে একটি মেয়েকে প্রপোজ করলে মেয়েটি না করে দেয়....

এক ছেলে একটি মেয়েকে প্রপোজ
করলে মেয়েটি না করে দেয় ।
ছেলেটি হাসিমুখে তার বন্ধুদের
কাছে ফিরে আসে ।
বন্ধু:কিরে তোর প্রপোজ
না করে দিলো আর তুই হাসচ্ছিস?
ছেলে: আমার কি?
আমি কাঁদবো কেনো?
বন্ধু: কারন ও তোর প্রপোজ
না করে দিয়েছে ।
ছেলে: আরে ধুর!!
আমি এমন
একজনকে হারালাম যে আমাকে
একটুও ভালোবাসেনা ।
আর ও
যাকে হারালো সে তার জীবনের
চেয়েও ওকে বেশি ভালোবাসতো ।
তো কাঁদার কথা কার?
আমার
নাকি ওর?

হাসি দেখে মেয়ে চিনুন

হাসি দেখে মেয়ে চিনুন

undefined
হাসির সময় যে মেয়েদের দাত বের হয় না তারা খুব সৌভাগ্যবতী হয়|

২| যেসব নারী হাসলে দু'গালে টোলপড়ে তারা ব্যাভীচারিনী।

৩| যে নারী হাসলে মুখ রক্তিম হয় সে কুটনা হয়।

৪| যারা যেকোনো কথায় হো হো প্রান খোলা হাসিতে ভরিয়ে দেয় তারা সরল ও সৎ হয়।

৫| যে নারী অতিরিক্ত হাসে তারা দুশ্চরিত্রা হয়।

৬| মৃদু হাসিনী নারী সুখি হয়।

নারীদের কথা, কবিতা, বিদ্রোহ.........

আমি ভাবতে চাই শান্তভাবে নিস্তব্ধতায়, সুবিস্তৃত পটভূমিতে, নির্বিঘ্নে, নিদ্রাতুর চেতনে, এক থেকে অন্য আরেকটিতে ছলকে যাব বলে, কোন প্রতিকুল বা প্রতিবন্ধক অনুভুতি ছাড়াই , ডুবে যেতে চাই গভীর থেকে গভীরতায়, পায়ের তলা থেকে বহুদুরে, নির্মম পৃথক বিচ্ছিনতায় ...

নারীদের কথা, কবিতা, বিদ্রোহ

 

শেয়ারঃ
3 0

ভার্জিনিয়া উলফ (Virginia Woolf)
- এটা মারাত্মক একটা ব্যাপার যদি একজন পুরুষ বা নারী খাঁটি এবং সহজ হয় ; একজনকে অবশ্যই হতে হবে পুরুষালি নারী অথবা মেয়েলি পুরুষ ।

- এই আত্মা, অথবা আমাদের ভিতরের জীবন, কোনভাবেই আমাদের বাইরের জীবনের সাথে সম্মত হতে পারে না । যদি একজন মেয়ে নিজে কি ভাবছে সেটা জিজ্ঞাসা করার সাহস কেউ রাখে , সবসময় সে অন্য মানুষ যা বলে তার খুব বিপরীতটাই বলবে ।

- যদি আপনার নিজের সম্পর্কে সত্য বলতে না পারেন আপনি অন্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে এটি বলতে পারেন না ।

- আমি ভাবি বাইরে আবদ্ধ থাকা কত অপ্রীতিকর ; এবং আমি ভাবি এটা তারচেয়েও খারাপ, হয়ত, নিজের ভিতরে আবদ্ধ থাকা ।


যতক্ষণ একটি মেয়ে অত্যাচারিত এবং অসহায়, যখনই সে দুর্বল এবং যখন তার দুঃসময়, ততক্ষণই তার জন্য মায়া জাগে, ততক্ষণই তাকে ভাল লাগে। আর যখনই মেয়েটি আর অসহায় নয়, অত্যাচারিত নয়, যখনই সে মেরুদণ্ড শক্ত করে দাঁড়ায়, নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে, নিজের শরীরের এবং মনের স্বাধীনতার জন্য সমাজের নষ্ট নিয়মগুলো ভাঙে, তখন তাকে আর ভাল লাগে না, বরং তার প্রতি ঘৃণা জন্মে । - তসলিমা নাসরিন

আপনার অধিকারের সপক্ষে দাঁড়ানোর সৌন্দর্য হচ্ছে অন্যরা আপনাকে দাঁড়াতে দেখবে এবং নিজেরাও দাঁড়াবে । - কাসান্দ্রা ডাফি ( Cassandra Duffy )


স্বাধীনতা সর্বদা এবং একচেটিয়াভাবে স্বাধীনতা তার জন্য যে ভিন্নভাবে চিন্তা করে । - রোজা লুক্সেমবার্গ (Rosa Luxemburg)


নারীবাদকে ঘৃণা করা হয় কারন নারীরা ঘৃণিত । নারীবাদ বিরোধিতা স্ত্রী - বিদ্বেষের প্রত্যক্ষ অভিব্যক্তি ; এটা নারীদের ঘৃণার রাজনৈতিক প্রতিরক্ষা । - আন্দ্রেয়া ডরকিন (Andrea Dworkin)


নারী জন্ম নেয় না, তাকে তৈরি করা হয় । এই নির্মানের পক্রিয়ায় তার মনুষ্যত্ব ধ্বংস করা হয় । সে হয়ে ওঠে এটার প্রতীক, ওটার প্রতীক ; পৃথিবীর মা, মহাবিশ্বের বেশ্যা ; কিন্তু সে কখনই নিজ হয়ে ওঠেনা কারন সেটা তার জন্য নিষিদ্ধ - আন্দ্রেয়া ডরকিন (Andrea Dworkin)


সমাপ্তি বাদ দিন । পাণ্ডুলিপি সংশোধন করুন । তার ( মেয়েটির ) স্বপ্ন মানুষ একটি মেয়ে । - জুলি অ্যান পিটারস (Julie Anne peters)


আমি মনে করি ঈশ্বর একটি অনুভূতিহীন সত্তা কারন তিনি আমাকে নারীপ্রেমী বানান নি । আমি আমার পুরুষদের প্রতি যৌন আগ্রহ দ্বারা গভীরভাবে হতাশ - দিয়ামান্দা গালাস (Diamanda Galas)


সত্যিকার নারীবাদ একটি নারীপ্রেমী চেতনা থেকেই আসে যদিওবা নারীটি কখনো কোন নারীর সাথে বিছানায় যাক বা না যাক । - অদ্রে লরদে (Audre Lorde)


প্রথম কেউ সুখানুভব দেবার উদ্দেশ্য আমাকে ছুঁয়েছিল, আমি প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম . . ব্যক্তিটির প্রতি নয় , বরঞ্চ সেই স্পর্শটি বা কর্মটির প্রতিই ।
- ফিওনা যেদ্দি (Fiona Zedde)


আমাদের কেউ কল্পনা করেনি ।
আমরা গাছের মত বাঁচতে চাই,
গন্ধকপূর্ণ বায়ু মাধ্যমে গনগনে স্ফুলিঙ্গের মত,
তিলকিত খুঁত সঙ্গে নিয়ে, এখনও উচ্ছাসে উদীয়মান,
আমাদের পশু আবেগ এই শহরে প্রোথিত ।

- অ্যাড্রিয়েন রিচ (Adrienne Rich)


তার স্তন মুক্তো ছড়ানোর জন্য উপযুক্ত,
কিন্তু আমি ডুবুরি ছিলাম কই ..
তার ভুরু সিংহাসনের জন্য উপযুক্ত
কিন্তু আমি একটি শিখাও নই ।
তার হৃদয় একটি বাড়ির জন্য উপযুক্ত ..
আমি - একটি চড়ুই - সেখানে নির্মাণকাজে যুক্ত
মিষ্টি আঙুল এবং চক্রজাল
আমার অনাদি আবাসস্থল ।

- এমিলি ডিকিনসন (Emily Dickinson) "Her breast is fit for pearls"


স্বর্ণবর্ণ মাথায় স্বর্ণাভ টায়রা,
যেন এক নীড়ে দুটি পায়রা
একে অন্যের ডানার ভাঁজে মিশে,
তারা তাদের পর্দাবিছানায় মেশে:
যেমন একই বৃন্তে দুটি ফুল
যেমন নতুন ঝরা তুষারের দুটি থাক,
যেমন গজদন্তের দুটি সাদা তরবারি
প্রতাপশালী রাজাদের জন্য স্বর্ণের সঙ্গ.
চন্দ্র এবং তারা তাদের দৃষ্টির অঙ্গ,
বাতাস শোনায় ঘুমপাড়ানি গান,
পেঁচারা জানায় রাতের অভিমান,
একটি বাদুড়ও ইতস্তত ওড়ে না
নীড় ঘিরে তাদের চক্রাকার নিশানা:
গাল থেকে গালে এবং বুক থেকে বুকে
আবদ্ধ একসাথে মনের ঠিকানা ।

- ক্রিস্টিনা রসেটি (Christina Rosetti) "Laura and Lizzie Asleep"

আমি রুপালি এবং যথার্থ । আমার কোন কুসংস্কার নেই ।
যাই দেখি গিলে ফেলি অনবরত
যেমন এটি হয়, ভালবাসা অথবা ঘৃণায় অকুয়াশাকৃত ।
আমি নিষ্ঠুর নই, শুধু সত্যের অমৃত,
ক্ষুদ্র ঈশ্বরের চোখ, চতুর্মাত্রিক খেয়াল ।
বেশিরভাগ সময়ে আমাকে মগ্ন করেছে বিপরীত দেয়াল ।
গোলাপী এটা, ক্ষুদ্র দাগের সাথে, দেখছি আমি কত সময় ধরে
মনে হয় এটা আমার হৃদয়ের একটি অংশ । কিন্তু এটা ঝিকমিক করে ।
মুখ এবং অন্ধকার আমাদের পৃথক করে যায় বারে বারে ।

এখন আমি একটি হ্রদ । আমাতে বিনীত হয়েছে এক নারী,
সব অনুভুতি হাতড়াই তবু তাকে কি ছুঁতে পারি ।
তারপর মেয়েটি ​​দেখে মিথ্যাবাদী, মোমবাতি অথবা চন্দ্রদেবী ।
আমি তাকে ফিরে দেখি, বিশ্বস্ত প্রতিফলন ।
সে আমাকে পুরষ্কার দেয় অশ্রুজল আর হাতের বিচলন ।
আমি তার গুরুত্বপূর্ণ কেউ । সে আসে আর যায় ।
প্রত্যেক সকালে এটি তার মুখ যা অন্ধকারকে নাড়ায় ।
আমার মাঝে সে এক যুবতীকে নিমগ্ন করেছে, এবং এক বৃদ্ধার দুঃখ যত
দিনের পর দিন তার দিকে ধেয়ে আসে, একটি ভয়ানক মাছের মত ।

- সিলভিয়া প্লাথ (Sylvia Plath) " Mirror "

বাজারব্যাবস্থার শ্মশানে তারা জমা করে শুষ্ক কাঠির থোড় ।
ছায়াদের জমাট ঘনত্ব দারিদ্র্যের আচ্ছাদন । আমার বসতঘর
নিজস্ব মোমের প্রতিকৃতি টি, একটি পুতুল শরীর ।
অসুস্থতার শুরু এইখানে: আমি নিশানাফলক জাদুকরী তীরে ।
পাপের অবাধ গলাধঃকরণ শুধু শয়তানই পারে ।
লাল পাতাদের মাসে আমি উঠে যাই আগুনবিছানার শিয়রে ।

অন্ধকারকে দোষারোপ করা সহজ; একটি দরজার মুখ,
ভাঁড়ারঘরের তলপেট । আমার স্ফুলিঙ্গকে তারা করেছে দুষিত ।
এক কৃষ্ণ- ঝলক রমণীর খাঁচায় বন্দি এই শুকপাখি ।
আহা মৃতদের কি টানাটানা আঁখি !
এক কেশবতী প্রেতের প্রগাঢ় অন্তরঙ্গতায় ।
ঠোঁট থেকে চক্রাকারে ধোঁয়া ওড়ে পাত্রের শূন্যতায় ।

আমি সামান্য একজন, কোন কিছুই হবে না আমার দুষ্কর্মের বলি
যদি আমি না নড়ি, কিছু নড়বে না, কিছু পড়বে না, তাই বলি,
প্রচ্ছদপটের নিচে বসে, শস্য ধানের মত জড় এবং ক্ষুদ্রকায় ।
তারা আগুন উসকে দ্যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাজায় ।
আমার ছোট শুভ্র সাথিরা, আমরা শর্করায় সম্পূর্ণ । আমরা বেড়ে উঠি ।
বেদনায় শুরু । লাল জিহ্বাগুলি শেখাবে সত্যের কলকাঠি ।

পোকাদের মা, কেবল তোমার হাত ছেড়ে পালাব, উড়ব;
মোমবাতির মুখ ঘিরে একটি অগ্নিপ্রেমী মথের মত উড়ে যাব ।
আমার আকৃতি ফিরিয়ে দাও । দিনগুলি নিতে চাই হাতের মুঠোয় ।
আমি ধুলোর সঙ্গে মিলিত হব পাথরের ছায়ায় ।
আমার গোড়ালিদ্বয় জ্বলজ্বল করে । উরুতে উঠে আসে জ্বলন্ত আগুন ।
আমি হারিয়ে গেছি, হারিয়ে গেছি, সব নিয়ে গেছে এই আলোর আবরন ।


-সিলভিয়া প্লাথ (Sylvia Plath 1932-63) "Witch Burning"

গোলাপী বা ফ্যাকাশে সে কোনটাই না ,
এবং সে কখনো আমার হবে না ;
সে তার হাতকে জেনেছে রুপকথায়,
এবং তার মুখ ভাসে ভালবাসায় ।
এত চুল তার ছিল কি প্রয়োজন ;
সূর্যালোকে আমার অভিশাপের আয়োজন ।
এবং তার কণ্ঠ রঙ্গিন পুঁতির পংক্তিমালা ,
বা সমুদ্রের পানে ভীরু ভীরু পথচলা ।
সে আমাকে ভালবাসে যতটা সে পারে ,
এবং আমার পথে থেমেছে তার পথের সীমানা ;
কিন্তু সে কোন মানুষের জন্য তৈরি হয়নি ,
এবং সে কখনো আমার হবে না ।

- Edna St. Vincent Millay "Witch-Wife" From Renascenc

আমি ভালোবাসি তোমার গ্রীবা, এত সুবাসিত, সুদর্শন ,
গিরিখাতে মৃদু হৃদয়ধ্বনির সামান্য স্পন্দন ;
তোমার লাজুক ভ্রুযুগল বাতাসে জিজ্ঞাসা ছড়ায় ;
আমি ভালোবাসি তোমার চুলের ছায়ায় ।
আমি ভালোবাসি তোমার আগুনে পোড়া গজদন্ত ত্বকের মসৃণতা ;
তোমার ছোট ছোট আঙ্গুল সাবলীল ভঙ্গুর ;
তোমার লতানো টোলের ভিতর বাহির ;
আমি ভালোবাসি তোমার চিবুকের নম্রতা ।
আমি ভালোবাসি তোমার নৃত্যকথন, তোমার উদ্দীপন ;
তোমার উড়ন্ত ইঙ্গিত, সদ্যধৃত ক্রন্দন ;
আমি প্রকৃতিস্থ নই, নই জ্ঞান বিশ্বাসী ,
ঈশ্বর! কিভাবে আমি তোমার দৃষ্টি ভালোবাসি !

- এঞ্জেলিনা ওয়েড গ্রিমকে (Angelina Weld Grimke) "You"

তোমার শুকনোপাতা শরীর
তোমার নারীত্ব এবং প্রবাল ঘেরের অলঙ্কার
যেন ছিল তারা এক স্বর্গীয় সহচর
ঠিকানা তাদের স্বর্গের সবুজ শহর ।
তুমি একটুকরো হাসো যখন আমরা কাছে আসি,
এবং আমি বাকরুদ্ধ আর প্রতিটি শব্দই ভুলে বসি ।
অনেককাল ধরে তুমি ফুল কুড়িয়েছ,
বাঁশবনের আড়ালে লকলকিয়ে ছুটেছ,
তোমার সবুজ হাতা দুটি ক্রমাগত ঠান্ডা হয়,
তোমার নির্জন উপত্যকায় ;
কল্পনায় ভাবি তোমাকে এক একাকী ছায়ায়,
একটি মেয়ের মাঝে রহস্যপূর্ণ চিন্তার আশ্রয় ।
তুমি সুগন্ধি বাতির মত উদ্ভাসিত
জমায়েতমান ছায়াদের ভিড়ে,
আমরা অমৃতের পেয়ালায় খেলা করি
একে অপরের কবিতায় মুগ্ধতার কুঁড়ি ।
তারপর ত্তুমি গাও 'দখিনের পুরনো নদীর গান'
হৃদয় ভাঙে দুঃখী পক্তিমালার বান, তারপরি
আঁকি একে অপরের ভ্রুযুগলে সুন্দরের ফুলঝুরি
আমি চাই তুমি শুধু আমার হও -
তোমার নষ্ট নারী দেহ
এবং তোমার প্রতিশ্রুত হৃদয় ।
আহ বসন্ত ।
পাঁচটি হ্রদ পাঁচরকম কুয়াশায় আবৃত ।
প্রিয়তমা, বলোতো কিনব তোমার ঠোঁটের মত রক্তিম নাও
এবং তোমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে দাও ।

-Wu Tsao 'For the Courtesan Ch'ing Lin'

তিন গোয়েন্দা সম্পরকৃত

তিন গোয়েন্দা

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

তিন গোয়েন্দা  সেভা প্রকাশনী হতে প্রকাশিত জনপ্রিয় একটি কিশোর গোয়েন্দা সিরিজ। এমনকি দৈনিক প্রথম আলো পরিচালিত একটি জরিপে বেরিয়ে এসেছে যে, বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের পঠিত গল্পের বইয়ের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় বই হচ্ছে 'তিন গোয়েন্দা', আর প্রিয় চরিত্রের মধ্যে আছে যথাক্রমে কিশোর পাশা, রবিন মিলফোর্ড আর মুসা আমান। জরিপে ৪৫০ জনের মধ্যে ৮১ জনই (১৮%) তিন গোয়েন্দার পক্ষে মত দিয়েছে।
১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাস থেকে বিদেশী কাহিনী অবলম্বনে শুরু হয় এই সিরিজটি। প্রথম থেকই রকিব হাসানই এই বিখ্যাত সিরিজটি লেখার কাজ করেন। রকিব হাসান একটানা ১৬০টি কাহিনী লেখেন। পরবর্তিতে শামসুদ্দীন নওয়াব এটি লেখার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। 'তিন গোয়েন্দা' তিনজন কিশোর গোয়েন্দার গল্প।
তিন গোয়েন্দা পুরোপুরি মৌলিক কাহিনী নয়। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন গোয়েন্দা কাহিনীর ছায়া অবলম্বনে রচিত। বিশেষ করে প্রথম দিককার বইগুলো রবার্ট আর্থারের (Robert Arthur) ইংরেজি সিরিজ "থ্রি ইনভেস্টিগেটরস" (The Three Investigators) অবলম্বনে রচিত। আবার কিছু বই এনিড ব্লাইটনের "ফ্যামাস ফাইভ" (Famous Five) অবলম্বনে রচিত। এই তিনজন গোয়েন্দাকে ঘিরেই 'তিন গোয়েন্দা'র শোভন প্রকাশনা বের হয় তিন বন্ধু নামে প্রজাপতি প্রকাশন থেকে।

আমার আনন্দের ভিতরে অনর্গল কথা বলছিল আর্তনাদ

আমার আনন্দের ভিতরে অনর্গল কথা বলছিল আর্তনাদ

প্রতিদিনের রোজনামচায় অতিষ্ঠ জীবন। কর্মবিমুখ সময়ের আঘাতে বিধ্বস্ত আমি তলিয়ে যাচ্ছি প্রতিদিন। সবকিছুতেই বিরক্ত হচ্ছি প্রতিমুহূর্তে। চিন্তা-শক্তি লোপ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বুঝতে পারছিলাম না কিভাবে সময় কাটাব। ভিষণ ক্লান্ত লাগছিল। আমার মনের অবস্থা বুঝলো পতিদেব। হঠাৎ একদিন আমাকে না জানিয়ে ব্লগ খাতায় আমার নাম লিখে দিলেন। আমিতো অবাক! লেখালেখি সম্পর্কে আমার কোন ধারনা নেই। এমনকি কিবোর্ড ব্যাবহারের ধরনটাও অজানা। আশ্চর্য হলেও সতি কথা। অতঃপর পতিদেবের অতি উৎসাহে ব্লগে মনোনিবেশ করলাম। দিনের পর দিন যাচ্ছে শুধু ব্লগ পড়ে যাচ্ছি, লেখালেখি আর হয়না। কিভাবে হবে? আমি কোনদিন একটি কবিতা কিংবা গল্প লিখিনি। এমনকি কোনোদিন ডায়েরিও লিখিনি নিজের জন্য। সে আমি লেখার স্পর্ধা দেখাই কি করে! এমনি করে কেটে গেল কয়েক সপ্তাহ।
লেখার বহুবার চেষ্টা করেছি। কি লিখি! কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিনা। পতিদেব বল্লেন মনে যা আসে সেটাই লেখ। কিন্তু মনের ফুটন্ত শব্দ গুলোকে বাক্যে সাজাতে পারলাম না।
আজ কিছু আমাকে লিখতেই হবে । নইলে পতিদেব একদিনের আড়ি ঘোষণা করেছেন। আমি হলাম পতি অন্তপ্রাণ। সম্ভাব্য পতি-বিরহ অসহ্য মনে হল। তাই সাহস করে লিখতে শুরু করলাম। কেউ পড়ুক কিংবা না পড়ুক আমি লিখলাম। এটি আমার প্রথম লেখা। এটুকু লিখেই আমার আনন্দের ভিতরে অনর্গল কথা বলছিল আর্তনাদ। আর আর্তনাদের ভিতরে গুণ গুণ করে গলা ভাঁজছিল অদ্ভুদ এক অস্বস্তি আর অস্বস্তির ভিতরে সমুদ্রের সাঁই সাঁই ঝড়। সেই ঝড়ের ঝাঁপটায় আমি দিশাহারা। বুঝলাম সাহিত্যের ভাষা আমার অজানা। হয়ত আমার লেখা শব্দগুলো সাদা কাশবন হয়ে দুলবে না কারো মনে। উড়ে যাবে শুকনো ঝাউপাতার মত বহু দূরে। যদি আমার এ লেখা শব্দের সিঁড়ি বেয়ে কাউকে গোলাপের মত উন্মীলিত করে এবং আমার লেখার ব্যর্থ প্রয়াস যদি করো হদয়ে মৃদু স্পন্দন জাগায় তখন-ই বুঝবো আমি বিজয়ী।

ভালোবাসা এবং তুমি

ভালোবাসার কোন অর্থ আমি খুজি না

খুজি না রুপ, বর্ণ, আকার

ভালোবাসার কোন মানে আমার জানা নেই

জানতে চাই না তার কোন বিবরণ।

আমার কাছে ভালোবাসা হচ্ছো তুমি

তোমায় ভেবে ভেবে এক একটি নির্ঘুম রাত্রিযাপন,

কল্পনার মাধুরী মিশিয়ে

স্বপ্নগুলোতে রঙের বিচ্ছুরণ ছুটিয়ে

বুঁনে চলা এক একটি স্বিগ্ধ সকালের গল্প।

আমার কাছে ভালোবাসার:

শুরু ও তুমি, শেষ ও তুমি।

মেঘলা দিনে ভীড় করা শুভ্র মেঘের আড়ালে

হারিয়ে যাওয়া সুনীল আকাশ তুমি,

আমার প্রিয় বৃষ্টির দিনে

ভিজতে থাকা মাধবিলতা তুমি,

হেমন্তের স্নিগ্ধ বিকেলে সোনালী ধানের খেতে heart heart heart

দোলা দেওয়া বাতাস তুমি,

রুপালী নদীর বুকে রোদের খেলা করা

চিঁকচিঁকে আঁভা তুমি।

তাই, তোমায় পেয়ে আমি আর খুজি না

ভালোবাসার কোন অর্থ

শুধু তোমায় ঘিরেই আবর্তিত আমার জীবন।


‘হিমু’র হাতে ধুমায়িত নিকোটিন!

                        ‘হিমু’র হাতে ধুমায়িত নিকোটিন!


মানুষ হয়ে জন্মেছি একটু ভুল না করলে কি চলে? মনুষ্য জনমতো তাই বারবার ভুল করি, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আবারো ভুল করি। ভাবটা এমন; যেন ভুল করতেই জন্ম নিয়েছি? তারপরও থেমে নেই জীবন নামের এই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের একমুখী যাত্রা। অধিক পরিমানে দুঃখ আর কিঞ্চিৎ সুখ নিয়ে কেটে যায় কাঙ্ক্ষিত মানব জনম। সুখের সময়টা মানুষ অতি সহজে পার করে দেয় বলেই মুহুর্তটাকে অধিক ক্ষুদ্র মনে হয়। অপরদিকে দুঃখটাকে বেশী স্থায়ী মনে হওয়ার কারণ হলো -আঘাত থেকে ক্ষতের সৃষ্টি হয় অতঃপর মানসপটে তা কষ্ট হয়ে ভাসে। কষ্টটা সাময়িক হলেও আঘাতটা স্থায়ী। তুঁষের আগুনের মত আঘাত থেকে কষ্ট উৎসারিত হয় অহর্নিশ। সুতরাং ভাবনাটা আসে ‘আসেলেই মানুষ বড্ড বেশী দুঃখী’। মেনেই নিলাম ‘মানুষ একটা দুঃখ মিশ্রিত রক্ত মাংসের আবরন। কথায় আছে- “দুঃখে যাদের জীবন গড়া তাদের আবার দুঃখ কিসের?” তাই দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণা কে নিক্ষেপ করে সুখের সন্ধানে চলিলাম।

যখন কিছুই ভাল লাগেনা তখন ইচ্ছে করেই রুমের জানালা-দরজা বন্ধ করে নিজের মত থাকি। জাগতিক পরাকাষ্ঠা থেকে দূরে থাকার ব্যর্থ চেষ্টা করি। গতকাল রাত ছিলো তেমন একটি রাত, তাই অনেকক্ষণ নিজের রুমেই ঘাপটি মেরে বসে ছিলাম। কিন্তু রুমেও নিজেকে সেভাবে মানিয়ে নিতে পারছিলামনা। কি করলে এখন নিজেকে প্রগাঢ় প্রশান্তিতে ভাসিয়ে রাখা যাবে? ভাবছিলাম আরো কত কি? অতঃপর মনের বাতায়ন উন্মুক্ত করে রুমের বাতায়ন খুললাম। কি আশ্চর্য! নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে কষ্ট হচ্ছে, এত চমৎকার জোসনা! অথচ আমি ঘরে একা বসে আছি। মনকে আর বাঁধা দিতে পারলাম না। নেমে পড়লাম নিজের আত্নাকে উদ্বেলিত করবো বলে আমার প্রিয় ‘জোসনা বিলাসে’। একা একা জোসনায় হাটার মজাই আলাদা। অন্যরকম ভালো লাগায় নিজেকে মাতিয়ে নিলাম। পুরোপুরি পথিক হয়ে গেলাম ক্ষণিকের মধ্যে জন-মানবহীন খোলা আকাশের নিচে। উদ্দেশ্যবিহীন পথচলা শুরু হলো আমার। নিস্তব্ধ রাস্তা ধরে আমার ক্লান্তিহীন পথচলা চলতে থাকে।

মেঠো পথ ধরে খালি পায়ে শিশির মাড়িয়ে চলে যাবো অনেক দূর। আমার প্রিয় গ্রামের সবকিছুই যেন আমার অতি চেনা। ঘর হতে বের হতেই জোসনার আলোর ঝিলিক। কাঁঠাল গাছের পাতার মধ্য হতে জোসনার আলো ঠিকরে পড়ছে রাস্তায়। হালকা বাতাসে দুলছে গাছের পাতাগুলো আর জোসনার আলোর লুকোচুরি চলছে বিরামহীন নিয়মে। নিজেকে অনেক সুখী ভাবতে ইচ্ছে করছিলো। কিন্তু ইচ্ছে করলেও পারলাম না। আজকাল মানুষের কাছ থেকে সুখ পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে তাই যাবতীয় আনন্দের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে একমাত্র এই প্রকৃতির অবিরাম সৌন্দর্য। প্রকৃতির এই বিচিত্র আবহে নিজেকে মানিয়ে নিতে খুবই সহজ হলো। হালকা বাতাসে হৃদয়ে মৃদু স্পন্দন দিয়ে যাচ্ছিলো। জোসনার আলো এবং বাতাস যেন আমার কানে-কানে বলে গেলো- ‘হে পথিক তোমাকে পেয়ে আমরা ধন্য’।

স্কুলের পাশের কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে দাঁড়ালাম। এই কৃষ্ণচূড়া গাছটা আমার অধিক প্রিয়, নিজ হাতে লাগিয়েছিলাম বলেই বোধ হয় মায়াটা একটু বেশীই। কিবা আনন্দ কিবা দুঃখ সবসময় এখানে আসলেই কেমন জানি মনটা রঙ্গিন রঙ্গে আটকে যায়। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। চারিদিকে শুনশান নিরবতা ভেঙ্গে কি আনন্দে যেন ঝিঁঝিঁ পোকারা কালক্ষেপণ না করে ডেকেই চলেছে। হতে পারে তাদের মনে হয় কাল ক্লোজ আপ ওয়ান ‘Singer Hunt’ টাইপের কোন প্রোগ্রাম আছে তাই রেওয়াজ করে কন্ঠের পরিচর্যা করছে। জিততে পারলেই লাখ টাকার পুরষ্কার! কি বিচিত্র হবে সেই কাহিনী। পত্র পত্রিকাতে হর-হামেশায় তাদের নিয়ে প্রচ্ছদ ছাপা হবে। তারপর যে ঝিঁঝিঁ পোকাটা পুরষ্কার জিতবে সে নিশ্চয় সবাইকে ডেকে পার্টি দিবে। আচ্ছা তাদের প্রিয় খাবার কি? তারা কি খাবারে হলুদ, লবন খায়? যদি কোন পুরুষ ঝিঁঝিঁ পোকা পুরষ্কারটা পায় তাহলে নিশ্চয় নারী ঝিঁঝিঁ পোকারা বিবাহের জন্য লাইন দিবে! আর যদি নারী হয় তাহলে পুরুষেরা অত্যাধিক মানের ফান হয়ে ফেইসবুকে হাজার খানিক পেজ খুলবে! কি জনপ্রিয়তা! আচ্ছা তাদের মাঝে কি মাস্তান গোছের কেউ থাকে নাকি? যদি থাকে তাহলে নিশ্চয় তাকে মোটা অংকের টাকা দিতে হবে চাঁদা হিসেবে। যদি দিতে না চায় তাহলে নিশ্চয় তাকে গুম করার হুমকি দিবে।

আপাতত ঝিঁঝিঁ পোকার কাহিনীটা মাথা থেকে ধামাচাপা পড়ে গেলো, কেউ একজন আমার দিকেই আসছে দেখে। অবয়বটা আস্তে আস্তে পরিষ্কার হতে শুরু করলো। কিন্তু কাছে আসার পরও তাকে চিনতে পারলাম না। কাছে আসতেই পরিচয় জিজ্ঞেস করলাম।

-আমি মুহি। আপনি?

- জ্বী আমি পথিক, এক দিকভ্রান্ত ফেরারী পথিক; তবে সুখী মানুষ।

-শুধুই পথিক, নাম নাই?

-আগে ছিলো এখন নাই

-আগে ছিলো এখন নাই, সে আবার হয় নাকি?

-নামটা না জানা থাকলেও কিন্তু আমরা কথা বলতে পারছি তাহলে নামটা নিশ্চয় তেমন জরুরী নয়।

নামের ঝামেলায় না গিয়ে পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম,

- জোসনা দেখতে বের হয়েছেন বুঝি?

- হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন।

- আপনিও কি তাই?

- হ্যাঁ

দু’জনের উদ্দেশ্য যেহেতু এক সেহেতু চলেন হাঁটি! নাম না জানা ব্যক্তির কথাকে অগ্রাহ্য না করেই তাকে সঙ্গি করে শুরু করলাম আজকের জোসনা রাতের হন্ঠন প্রক্রিয়া। লোকটাকে কেমন জানি রহস্য মানব টাইপের লাগছে। তবে সাধারণ মানুষ থেকে অনেক আলাদা এবং তাকে এর আগে কোথাও দেখেছি বলে মনে হচ্ছে। আগ বাড়িয়ে কিছু বলছে না। বলা যায় নিশ্চুপ থাকতেই বেশি পছন্দ করছে। মলিন একটা পাঞ্জাবী গায়ে,পাঞ্জাবীর রঙটা কি ছিলো বুঝা মুশকিল, মুখে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কিছু অযত্নে বেড়ে ওঠা দাঁড়ি। চুলগুলো উস্কোখুস্কো হয়ে পাখির বাসার মত লাগছে। রোগাক্রান্ত বললে খুব একটা ভুল হবে না। বোঝা যাচ্ছে নিজেকে তেমন যত্ন করে না। তারপরও কেমন জানি ভাল লেগে গেলো তাকে। সাধারনত এই ধরনের মানুষের মাঝে ঈর্ষা নামক শব্দের ব্যবহার্য কম থাকে। কি যেন এক টানে লোকটাকেআপন মনে হতে শুরু করলো।

আপন যেহেতু লাগছে তাই অধিক আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম;

- থাকেন কোথায়?

- থাকার তেমন স্থায়ী জায়গা নেই তবে থাকতে অসুবিধা হয় না। আপনি যেমন আমার সঙ্গি হলেন আজকের রাতের জন্য, তেমনি সবাই এভাবেই আপন করে নেয়। আর সবার কিন্তু স্থায়ী থাকার জায়গার দরকার হয়না। জায়গা স্থায়ী হওয়া মানেই কিছু স্থায়ী সম্পর্কে জড়িয়ে যাওয়া। আমার তেমন স্থায়ী সম্পর্ক কারোর সাথে নেই। হয়তো কোন দিনও হবে না।

- কথার মাঝে কেমন জানি আক্ষেপ খুঁজে পেলাম। বুঝতে দেরী হলোনা নিশ্চয় তিনি কষ্টের নিকোটিনে জর্জরিত। ধরেই নিলাম তিনি কষ্টে আচ্ছন্ন কিন্তু তিনিতো প্রথমেই পরিচয় দিলেন একজন ‘সুখী মানুষ’। তবে কি? না থাক! অনেক প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছিলো কিন্তু কেন জানি করতে পারলাম না।

আমি তাকে আর কোন প্রশ্ন না করেই চলতে শুরু করলাম। গন্তব্যহীন পথে হাটার মাঝে এক ধরনের আনন্দ আছে। হাঁটতে হাঁটতেই কিসের যেন সু-ঘ্রাণ আমাকে দোলা দিয়ে গেলো। দোলা দিয়ে গেলো কারণ এ যে আমারই প্রিয় কামিনী ফুলের ঘ্রাণ। শুরুতেই প্রিয় কিছু পেয়ে যাওয়াতেই মনে হলো আজকের রাতের পথিক হওয়াটা স্বার্থক। কতটুকু হেঁটেছি তার হিসাব নেই। বেশ কিছুটা পথ হাটার পরে একটা বট গাছের নিচে দাঁড়ালাম। একটু বিশ্রাম নেওয়া যায় কিনা চিন্তা করছিলাম। কিন্তু কিছু বলার আগেই আগন্তুক লোকটা শান বাধানো বট গাছের নিচে বসে পড়লেন এবং আমাকেও বসতে বললেন। একটা সিগারেটের প্যাকেট বের করে হাত বাড়িয়ে আমার দিকে নিয়ে বললেন- সিগারেট খান নাকি? আমি না বলতেই উনি একটা সিগারেট বের করে আগুন জ্বালালেন। বুঝলেন মুহি সাহেব, আমিও একসময় সিগারেট খেতাম না কিন্তু এখন খায়। কেন খায় এটা জিজ্ঞেস করবেন না। আমার আবার কৌতুহল একটু বেশী তার উপর উনি ‘নিষেধ’ নামক শব্দটা যোগ করাতে কৌতুহলের রাশি দ্বিগুন মাত্রা যোগ হয়ে মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো। সিগারেট খাওয়ার পেছনেও কোন কাহিনী থাকে নাকি? ভাবনার গভীরে মানুষের উচ্ছলতা নিয়ে ভাবতেই বড্ড বেশী ভালো লাগে। আচমকা ভাবান্তর ঘটালো, আমি যার সাথে হাঁটছি তার নামটা পর্যন্ত এখনো জানা হলোনা। কেন জানি লোকটার নাম খুব জানতে ইচ্ছে করলো কিন্তু তার নামের ব্যাপারে নাক সিটকানি দেখে আর জিজ্ঞেস করা হয়ে উঠলোনা।

হঠাৎ আমার চিন্তার রশি কেটে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কি করেন আপনি? আমি অতি সাধারন ভাবে উত্তর দিলাম- ইচ্ছের বিরুদ্ধে পড়ালেখা করি আর ইচ্ছের মধ্যে বলা যায় সুখের অনুসন্ধান করি। আমার উত্তরে উনি খুশি হলেন কিনা জানি না। তাকে খুশি করার জন্য যে আমি উত্তরটা দেয়নি এটা উনি বুঝতে পেরেছেন বোধহয়। ধীরে ধীরে জোসনার উজ্জলতা কমতে শুরু করেছে। কিছু উটকো মেঘ এসে চাঁদটাকে ঢেকে দিয়ে যাচ্ছে। চাঁদের সাথে মেঘের লুকোচুরি দেখতেও খুব একটা খারাপ লাগছে না। আমি মানুষটাকে দেখছি, তিনি একনিষ্ঠ মনে চাঁদের দিকে চেয়ে আছেন। চাঁদকে তার বড্ড বেশী আপন মনে হলো। যেমন করে সিগারেট খাচ্ছেন তেমন করে চাঁদটাকে গিলে খেতে পারলে উনি মনে হয় খুশি হতেন।

হঠাৎ চোখ মেলেই কাউকে আর কাছে পেলাম না। কোথায় আছি এটাও বুঝতে পারছিনা। কিছুক্ষন চোখ ডলাডলি করে আবিষ্কার করলাম শান বাঁধানো বট গাছের গোড়ায় আমার অবস্থান। তার মানে কি আমি স্বপ্ন দেখছিলাম? না! স্বপ্ন দেখলেতো ঘরের বেডে শুয়ে থাকতাম। কিন্তু আমি যে বট গাছের তলায়! তাহলে কি কাল রাতে হাঁটতে হাঁটতেই এখানে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে গেছি? তাই হবে হয়তো। কিন্তু আমার সাথে যিনি ছিলেন তিনি কোথায়? মাথা ঘুরিয়ে চারিদিকে তাকালাম কিন্তু কোথাও তাকে পেলাম না। শুধু আমার মাথার কাছে একটা ভাঁজ করা কাগজ পেলাম। কাগজটাতে মাত্র দুইটা ভাঁজ। তবে কাগজটার উপর সিগারেটের প্যাকেটটা রাখা আছে যাতে কাগজটা উড়ে যেতে না পারে। সিগারেটের প্যাকেটটা দেখে চিনতে কষ্ট হলো না যে, এটি কাল রাতের অগন্তুকের সিগারেটের প্যাকেট। আর দেরি না করেই কাগজের ভাঁজ খুললাম।

“ মুহি সাহেব, জগতে কিছু ভাল মানুষ আছে বলেই জগতটাকে অনেক বেশী সুন্দর মনে হয় বলতে দ্বিধা নেই বলতে আপনিও তাদের মধ্যে একজন। আমি আপনার নাম শুনেই বুঝতে পেরেছিলাম অনেক কিছুই। তাই আর নিজের নামটা বলতে ইচ্ছে করছিলো না। পারতপক্ষে এখন আর কাউকে আমার আসল নামটা বলি না। বলতে ইচ্ছে করেনা। আমি জানি, আপনি একজন সুখসন্ধানী মানুষ। আমিও তার ব্যতিক্রম নয়। সুখের খোঁজেই আজও পথে পথে ঘুরি। এবার নাম প্রসঙ্গে আসি, আমার নাম ‘হিমু’ আপনাদের ‘হিমু’। যাকে আপনি নিজের মাঝে ধারণ করেন এবং ‘হিমু’ শব্দটাকে উল্টিয়ে নিজের নাম দিয়েছেন- মুহি । ভাল থাকবেন, হয়তো দেখা হবে অন্য কোন পথের পথিক হয়ে।”

ইতি- ‘হিমু’।

ইয়ুপোইয়া ও চুনচিছি

ইয়ুপোইয়া ও চুনচিছি

       চীনের বসন্ত –শরত আমলে ছুরাজ্যে ইয়ুপোইয়া নামে একজন সংগীদবিদ ছিলেন । ছোটবেলা থেকেই ইয়ুপোইয়া বুদ্ধিমান ছেলে , তিনি সংগীত পছন্দ করেন । ইয়ুপোইয়া তখনকার বিখ্যাত বাদক ছেনলিয়ানের কাছ থেকে সঙ্গীত শিখেন ।  
  তিন বছর পর ইয়ুপোইয়া একজন খ্যাতনামা বাদক হন । কিন্তু তিনি সন্তুষ্ট নন , তিনি বাদ্যযন্ত্র বাজার মান আরো উন্নত করতে চান । তার শিক্ষক ছেনলিয়েন তার মনোভাব জেনে তাকে বল্লেন ,আমি আমার জানা সব কিছু তোমাকে শিখিয়েছি , তুমি সেগুলো সব আয়ত্ত করেছ । সংগীত উপলব্ধির দক্ষতা আমাকেও বাড়ানোর প্রয়াস চালাতে হবে । আমার শিক্ষক ফান চি ছুন একজন বিখ্যাত সংগীতবিদ , তিনি শুধু একজন বাদক নন , সংগীত উপলব্ধি ক্ষেত্রে পারদর্শী । তিনি এখন পূর্বসাগরের একটি দ্বীপে থাকেন , আমরা তার কাছে যাবো , কেমন ? তুমি তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখবে । ইয়ুপোইয়া এই কথা শুনে মহাখুশি ।

  তারা প্রচুর খাবার নিয়ে নৌকা করে পূর্বসাগরের দিকে রওয়ানা হলেন । একদিন তাদের নৌকা ফেনলাই পাহাড়ের কাছে পৌঁছে । ছেনলিয়েন ইয়ুপোইয়াকে বলেন , তুমি এখানে অপেক্ষা কর , আমি আমার শিক্ষককে নিয়ে আসবো । এই কথা বলে ছেনলিয়েন নৌকা করে চলে যান । অনেক দিন পরও ছেনলিয়েন আর ফিরে আসেন নি । নিজের শিক্ষককে ফিরতে না দেখে ইয়ুপোইয়া খুব চিন্তিত । তিনি পাহাড়ের পাদদেশে দাড়িয়ে সাগরের দিকে তাকান , দ্বীপে কোনো লোক নেই । শুধু গাছের পাখির কিচির-মিচির শব্দ , যেন গান গাইছে । ইয়ুপোইয়া এই পরিবেশে মনের দুঃখ প্রকাশের জন্য একটি সুর বাজান , সেই থেকে ইয়ুপোইয়ার বাদ্যযন্ত্র বাজার মান দ্রুত উন্নত হয় । আসলে তার শিক্ষক ছেনলিয়েন ইচ্ছা করে ইয়ুপোইয়াকে ছেড়ে চলে যান , যাতে ইয়ুপোইয়া প্রকৃতি থেকে সংগীত উপলব্ধির অনুভুতি পান ।

  ইয়ুপোইয়া এই নির্জন দ্বীপে সাগর , গাছ ও পাখির সঙ্গে থাকেন । স্বাভাবিকভাবেই তার মনের অনুভুতির পরিবর্তন হলো , তিনি বুঝতে পেরেছেন শিল্পের মূলসত্তা উপলব্ধি করার পরই ভালো সুর বাজাতে পারে । ইয়ুপোইয়া একজন বিখ্যাত বাদক হলেও তার সুরের অর্থ বোঝার মতো লোক বেশী নেই ।

  একদিন ইয়ুপোইয়া নৌকা করে বেড়াতে যান । এক পাহাড়ের পাশে যাওয়ার সময় হঠাত মুশলধারে বৃষ্টি শুরু । ইয়ুপোইয়া নৌকায় বসে বাদ্যযন্ত্র বাজাতে শুরু করেন । হঠাত তিনি তার বাদ্যযন্ত্রের তারের মৃদু স্পন্দন অনুভব করেন , এতে প্রমাণিত হয় যে আশেপাশে কোনো লোক তার বাজনা শুনছেন । ইয়ুপোইয়া নৌকা থেকে বেরিয়ে দেখেছেন নদীর তীরে গাছের নীচে চুনচিছি নামে একজন কাঠুরে বসে আছেন ।

ইয়ুপোইয়া চুনচিছিকে নৌকায় নিয়ে যান । ইয়ুপোইয়া বলেন , আমি আপনার জন্য একটি সুর বাজাই , কেমন ? চুনচিছি ধন্যবাদ জানিয়ে সায় দিলেন। ইয়োপোইয়া ‘ পাহাড় ’ নামে একটি সুর বাজালেন , চুনচিছি সুর শুনে বলেন , কত উচু পাহাড় ! ইয়ুপোইয়া আবার ‘ নদীর পানি ’ নামে একটি সুর বাজাল , চুনচিছি তা’ শুনে প্রশংসা করে বলেনঃ নদীর পানি নিরন্তরভাবে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে । চুনচিছির কথা শুনে ইয়ুপোইয়া অবাক হলেন , তিনি চুনচিছিকে বলেন , এই পৃথিবীতে শুধু আপনিই আমার মনের কথা বুঝতে পারেন । দুজন মৃত্যু পর্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার প্রতিজ্ঞা করেন ।

  ইয়ুপোইয়া চুনচিছিকে বলেন , পর্বতপাহাড় ও নদনদী ঘুরে ঘুরে দেখার পর তিনি তার বাসায় যাবেন । একদিন ইয়ুপোইয়া নিজের কথা অনুসারে চুনচিছির বাসায় গেলেন । কিন্তু দুঃখের বিষয় চুনচিছি রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন । এই খবর পেয়ে ইয়ুপোইয়া তার কবরের সামনে এক বেদনাদায়ক সুর বাজান , তারপর তিনি উঠে দাড়িয়ে নিজের বাদ্যযন্ত্র চুনচিছির কবরে ভেঙ্গে দিলেন । সেই থেকে ইয়ুপোইয়া আর সুর বাজান নি ।

হঠাৎ এসেছিলে চোখের আলোতে হারিয়ে ফেলেছি এক ঝলকে তবুও তুমি...........

হঠাৎ এসেছিলে চোখের আলোতে হারিয়ে ফেলেছি এক ঝলকে তবুও তুমি ছিলে চোখের কোনে আগলে রেখেছি বর যতনে। ভালবেসেছি তোমাকে প্রথম চোখের আলোতে এসেছো যখন,ছিলে হৃদয় জুড়ে প্রতিক্ষণে।আজও তুমি তেমনি আছো তেমনি থাকবে আমার হৃদয় জুড়ে